মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

অভ্যুত্থানের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি: যা বলছেন বিশ্লেষকরা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৯ Time View

অনলাইন ডেস্ক:গণঅভ্যুত্থানের বড় অর্জন ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী শাসনের পতন। কিন্তু এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন গত এক বছরে কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে? শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ ও গবেষকরা বলছেন, মব সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্যে-সেই আকাঙ্ক্ষা অনেকটা মলিন হয়েছে। হতাশা বেড়েছে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও নির্বাচন নিয়েও।

এ বিষয়ে আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আইনের এত ব্যক্তয় হয়েছে যে, একটা হত্যা মামলায় ১০০ জনের বেশি আসামি হয় না। মামলায় নাম দিয়েছি টাকা দিলে নাম তুলে নেবো এমন অনেক দেখেছি আমরা।

গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ জানান, এই অভ্যুত্থানের বড় অর্জন হলো তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে আগ্রহী হয়েছে। তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অনেককে দেখছি চাঁদাবাজির ঘটনায় ধরা পড়ছে, নানা ধরনের তদবির ধরা পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদে থাকবে এটা অবশ্যই অগ্রগতি কিন্তু এতে শ্রমজীবিদের জীবনে মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না। কেউ যখন জিজ্ঞেস করে নির্বাচন হবে কী না তখন আমি বলি নির্বাচন হবে কারণ এটি ছাড়া বাংলাদেশে অন্য কাজ এগোবে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ক্ষমতা হাতে আসলে এটাকে নিজের সম্পত্তি বানানো, টাকা বানানো, বিদেশ পাচার করা, এই সংস্কৃতির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার বিষয়টি গণঅভ্যুত্থানের সবার জন্য বড় একটি আঘাত।

সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার বলে এখনও কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে সংবিধান এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও কমিশনই হয়নি। প্রশাসন পুলিশ বা বিচারব্যবস্থা নিয়ে কোন আলোচনাই হয়নি। কেউ কেউ চায় নির্বাচন পিছিয়ে যাক। এটি ঠিক হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত সবার সাথে কথা বলে নির্বাচন আয়োজন করা।

অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, অভ্যুত্থান শেষ হওয়ার সাথে সাথে নারীরা ফ্রেমের নিচে চলে গেছে বা হারিয়ে গেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ১০০ আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দেননি। আমাদের আশা ছিল বিচার প্রক্রিয়াকে তারা যেভাবে দেখবেন সে জায়গায় আমাদের প্রত্যাশা পৌঁছায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হতাশার পথ পেরিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন এখনও আছে। তবে তা নির্ভর করবে অন্তবর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতার ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews