বিশেষ প্রতিনিধি:সাতক্ষীরার কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ভেতরে ঢুকে এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খালেদ মঞ্জুর রোমেলের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম দৈনিক রূপান্তর পত্রিকার কলারোয়া উপজেলা প্রতিনিধি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি কলারোয়া পৌরসভার প্রাণীসম্পদ অফিস মোড়ের রিপোর্টার্স ক্লাবে বসে সংবাদ প্রস্তুত করছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খালেদ মঞ্জুর রোমেল সেখানে ঢুকে কিছু বুঝে উঠার আগেই ক্লাবের সভাপতি-সম্পাদকের অনার বোর্ড টেনে ফেলে দেয়। এরপর আমার দিকে এগিয়ে এসে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হন।
তিনি বলেন, আমি প্রতিবাদ করলে রোমেল তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে রিপোর্টার্স ক্লাব আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেব। তবে কি কারণে এমন আচরণ করলো আমি জানিনা। এ ঘটনায় মোস্তফা হোসেন বাবলুসহ একাধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে রিপোর্টার্স ক্লাবে জরুরি বৈঠক হয়। ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, এ ঘটনা ন্যক্কারজনক। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং রোমেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা চাই।
কলারোয়া থানার ওসি শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। লিখিত অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খালেদ মঞ্জুর রোমেলের ব্যবহৃত মুঠোফোন কল দিলে তিনি রিসিভ করেনি। তবে কিছুক্ষণ পরে কল ব্যাক করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে বলেন আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোমেলের বিরুদ্ধে অতীতেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, লুটপাট ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিবারই তিনি দায় এড়িয়ে গেছেন।
সাংবাদিকরা বলছেন, ক্লাবের মতো জায়গাও যদি নিরাপদ না হয়, তবে কোথায় নিরাপত্তা খুঁজব? এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল দ্রুত দোষীর গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।