মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

মিথ্যা খবরে ক্ষোভ উপদেষ্টা-সচিবের

  • Update Time : রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৩ Time View

অনলাইন ডেস্ক:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেও ‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ খবরের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের দাবি, সরকার ও আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা গুজব ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন হচ্ছে। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি মূল ধারার সংবাদমাধ্যমেও খবরের নামে অপসাংবাদিকতা চলছে। এ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গত বুধবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক এক বৈঠকে তারা এ ক্ষোভ দেখান। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠকে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ খবর পরিবেশন হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। তারা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো কোনো গণমাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ সংবাদ করা হয়েছে, যেসব খবরের সত্যতা নেই। প্রতিবাদ জানানো হলে সেটিও সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে না অভিযোগ করে তারা বলছেন, মানুষ এসব খবর নিয়ে সরকারের নানা সমালোচনা করছে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারছে না সরকার। তা ছাড়া মানুষ বিভ্রান্তও হচ্ছে। এজন্য এ ধরনের খবরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ খবর প্রকাশ হওয়া নিয়ে প্রথমে কথা তোলেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তার বক্তব্যের পর আরও কয়েকজন সচিব এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানার উদ্দেশে বলেন, ইদানীং মেইনস্ট্রিম (মূল ধারার) গণমাধ্যমেও ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ খবর পরিবেশন হচ্ছে। আপনারা মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এসব মিথ্যা খবর প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি। মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। এরপর ইসি সচিব আখতার বলেন, সামনে নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে নানা ‘মুখরোচক বানোয়াট’ খবর প্রকাশ হচ্ছে। কোনো কোনো খবরের সত্যতা একেবারেই নেই। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের নামেও ‘মিথ্যা’ খবর লেখা হচ্ছে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে এসব অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যাচার, উসকানি এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্প্রচারের পরও সরকার তা সেন্সর করেনি এবং প্রতিশোধ নেয়নি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) এমন বিবৃতির জবাবে গত শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘রেসপন্স টু নোয়াব: সেটিং দ্য রেকর্ড স্ট্রেইট’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে, আমরা ভুল তথ্য এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্প্রচারের মুখেও ব্যতিক্রমী সংযম ব্যবহার করেছি।’
তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন টকশো এবং কলামগুলোয় প্রায়ই এই সরকার সম্পর্কে মিথ্যা এবং উসকানিমূলক দাবি প্রকাশিত হয়েছে। তবু আমরা সেন্সর করিনি বা প্রতিশোধও নিইনি। আমরা অভিযোগ করিনি। এমনকি উসকানি দেওয়ার পরও লাইসেন্স স্থগিত করিনি বরং অতীতের শাসনামলে জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া কিছু গণমাধ্যমের পুনঃপ্রকাশ বা সম্প্রচারে ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করেছি। এটি স্পষ্টতই বাকস্বাধীনতা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতি সরকার যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা প্রমাণ করে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের তাগিদ: গত বুধবারের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ত্রয়োদশ নির্বাচনকেন্দ্রিক বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও সেনাবাহিনীর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্বাচনে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বেশি পরিমাণে মোতায়েন করা সম্ভব হয়, সেজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়োগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোয় বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews