নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের মুনজিতপুর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন আকবর হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেনকে ডিজিটাল সাইবার নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজির মামলায় কাফরুল থানার একদল চৌকস পুলিশ অফিসার গ্রেপ্তার করেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের সংগীতার মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বর্তমানে ইমরান হোসেন কারাগারে আছে। তার গ্রামের বাড়ি কালিগঞ্জের ভাড়াসিমলা।
জানা যায়, মো: ইমরান হোসেন বিগত ১২ বছর ধরে বিভিন্ন মেয়েদের ফেসবুক থেকে ছবি নিয়ে এডিট করে নিজের সাথে আপত্তিকর ছবি বানিয়ে বিভিন্ন পরিবারকে জিম্মি করে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে সেই ছবি ছড়িয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নিরীহ নারীদের ফেসবুকের ছবি নগ্ন বানিয়ে বহু নারীদের সর্বশান্ত করেছে। এমনি কি তার আপন ফুফাতো বোন ও বিভিন্ন বন্ধুদের বউও বাদ পড়েনি তার এই প্রতারনার ফাঁদ থেকে। কিন্তু সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে কেউ আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
ইমরানের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরান স্কুল জীবন থেকেই বেপরোয়া জীবনে অভ্যস্থ হয়ে নারীদের উত্যক্ত, প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া ও প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে সেই মেয়েকে ব্লাকমেইল করাসহ নিয়মিত বিভিন্ন মাদক সেবক করত। কলেজ জীবনে নিজেই মাদকের ব্যবসায় যুক্ত হয়ে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। এর ফলে ২০১২ সালে মাদক সেবন ও পাচার কালে এক নারী সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে মামলায় অভিযুক্ত হয়।স্বামীর মাদক ব্যবসার সাথে তার স্ত্রী মাগরুরা আক্তার আখীও যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। খুলনা সাইবার ট্রাইবুনাল কোর্টে স্বামী স্ত্রী দুজনের নামেই একটা মামলা চলমান আছে।
এছাড়াও সে স্বর্ণ চোরাচালানের সাথে যুক্ত থেকে নিয়মিত দুবাই যাতায়াত এবং ভারতে স্বর্ণ পাচারের সাথে যুক্ত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই হত্যাকান্ডে আ.লীগের অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে। তার এই বিভিন্ন অপকর্মের সাথে তার ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধু সাহায্যে ও সহযোগীতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকেও গ্রেফতার করার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
কাফরুল থানার ওসি কাজী গোলাম মোস্তাফা গ্রেপ্তারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেনের নামে সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ একাধিক মামলা আছে। সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।